ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬,
সাফ ফাইনাল ২০০৩

ছোট্ট জাইমাকে নিয়ে দেখেছিলেন খালেদা জিয়া

দৈনিক সবুজ নিশান

ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫, ০২:৪৮ পিএম

ছোট্ট জাইমাকে নিয়ে দেখেছিলেন খালেদা জিয়া

শেষবার খালেদা জিয়া যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখনই এসেছিল ফুটবলের সেরা সাফল্য। ২০০৩ সালের ২০ জানুয়ারি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মালদ্বীপকে হারিয়ে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র ট্রফি জিতেছে বাংলাদেশ। ২২ বছর আগে হাসান আল মামুন-আমিনুল ইসলামদের হাতে সোনায় মোড়ানো সাফের ট্রফি তুলে দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেই সময় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন এস এ সুলতান টিটু। গতকাল পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের কথাটি স্মরণ করলেন টিটু।

সেই ফাইনাল দেখতে শুধু খালেদা জিয়াই নন তাঁর সঙ্গে তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানও ছিলেন বলে গণমাধ্যমে জানান এ ক্রীড়া সংগঠক, ‘ফুটবল নিয়ন্ত্রণ করত ফিফা। এটি কোনো রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করত না। তারপরও তিনি ব্যক্তিগতভাবে ফুটবলের খবরাখবর রাখতেন। আমরা যখন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছিলাম, তখন বাংলাদেশ দলকে উৎসাহ দিতে মাঠে এসেছিলেন তিনি। আপনারা যে সবাই তারেক রহমানের মেয়ে জাইমাকে দেখছেন, সেই সময় সে তো ছোট্ট ছিল। সাফের ফাইনালে ছোট্ট জাইমাকে নিয়ে মাঠে বসে খেলা দেখেছিলেন ম্যাডাম খালেদা জিয়া। সাফ জেতার পর আমাদের দলের সব ফুটবলারকে বোনাস দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন ফুটবল অনুরাগী। বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে তিনি খুব উদার ও আন্তরিক ছিলেন।’

অনেকেই মনে করে ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফি বাংলাদেশে প্রথম এসেছিল ২০১৪ সালে। এর আগেও একবার বিশ্বকাপ ফুটবলের রেপ্লিকা ট্রফি ঢাকায় এসেছিল। সেটি ২০০২ সালের ২৭ এপ্রিল। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ট্রফিটা কীভাবে ঢাকায় আনা হয়েছিল, তা তুলে ধরে এস এ সুলতান টিটু বলেন, ‘তখন ফিফার প্রোগ্রাম ছিল যে এই ট্রফিটা কিছু দেশে ঘোরানো হবে। তার ভেতরে বাংলাদেশ ছিল। এটার জন্য আমি ধন্যবাদ দিতে চাই হাম্মামকে। এএফসির প্রেসিডেন্ট ছিলেন মোহাম্মদ বিন হাম্মাম। তিনি আমাকে খুব পছন্দ করতেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন এই ট্রফি বাংলাদেশেও ঘুরবে। বিশ্বকাপের ট্রফিটা নিয়ে ফিফার লোকজন বাংলাদেশে এসেছিলেন। আমি বিমানবন্দরের ভিআইপি গেট থেকে ঘোড়ার গাড়ি সাজিয়ে ট্রফিটি ঢাকা শহর প্রদক্ষিণ করিয়ে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার অফিসে (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) নিয়েছিলাম। ম্যাডামকে ট্রফিটা দেখালাম। ম্যাডাম অনেক খুশি হয়েছিলেন। ৮-১০ ঘণ্টার মতো ট্রফিটা বাংলাদেশে ছিল। সেই সময় ছবি তোলার ব্যবস্থা ছিল কিনা, আমার মনে নেই। আর আজকে তো তিনি (খালেদা জিয়া) নেই।’

এস এ সুলতান টিটু দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সর্বোচ্চ চেয়ারে ছিলেন। ফুটবল নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর আলোচনা হতো। খেলাধুলার বাইরে তাঁর কাছে খালেদা জিয়া হলেন অনন্য, ‘তিনি মানুষের সঙ্গে খুব যে মিশতেন তা না। তবে যা প্রশ্ন করতেন বা কথা বলতেন, সেটার ভেতর তার একটা গাম্ভীর্য ছিল। তিনি যে কথাটিই বলতে চাইতেন, এটার মধ্যে একটা বার্তা থাকত। সেটা খেলাধুলায় কিংবা অন্য যে কোনো সেক্টরেই হোক। তিনি নেত্রী হিসেবে বাংলাদেশের প্রথম এবং তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কারণেও মানুষের মনে একটা নারীর প্রতি যে শ্রদ্ধা, সেটা তিনি পেয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বের প্রজ্ঞা ছিল উঁচু মানের।’

দৈনিক সবুজ নিশান

Link copied!