ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬,
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

আমরা শত্রুকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করব

দৈনিক সবুজ নিশান

জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ০১:২৩ পিএম

আমরা শত্রুকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করব

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে আটক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। দুই দেশই দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে এবং পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে। মাদুরোকে আটক করার পর তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে ‘অবৈধ সামরিক আগ্রাসন’ বলে নিন্দা করেছে এবং জাতিসংঘকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আমরা শত্রুর কাছে নতি স্বীকার করব না। আমরা শত্রুকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করব।

এদিকে মাদুরোকে আটক করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের প্রতি সতর্কবার্তা দেন ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ। তিনি বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর উচিত ভেনেজুয়েলায় কী হচ্ছে, সেদিকে গভীরভাবে নজর রাখা। 

বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোকে জোরপূর্বক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিল (এনআইএসি)-এর সভাপতি জামাল আবদি বলেন, নতুন ধরনের এই আইনবহির্ভূত আচরণ বিশ্বকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে। তার মতে, মাদুরোর অপহরণের ঘটনায় ইরান মনে করতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনীতি অর্থহীন এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। 

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নেগার মোরতাজাভিও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সর্বোচ্চবাদী নীতি কূটনৈতিক সমাধানের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে এবং সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালাবে। তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালালে ইরানকে ‘কঠোরভাবে আঘাত করা হবে’।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ভেনেজুয়েলার মতো ‘সরকারি নেতৃত্ব অপসারণ’ মডেল ইরানের ক্ষেত্রেও প্রয়োগের চেষ্টা হতে পারে। তবে আবদি বলেন, ইরান এ ধরনের অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে সক্ষম এবং এতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

মাদুরো অপহরণের পরও ভেনেজুয়েলায় সরকার পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ নিজেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে নিন্দা জানিয়েছেন। ট্রাম্প পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানতে অস্বীকার করলে ‘ভারি মূল্য দিতে হবে’।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন, যা ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের ক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সামরিক পদক্ষেপ নিতে হতে পারে, যা বিশ্ব রাজনীতিকে আরও অস্থির করে তুলবে।
 

দৈনিক সবুজ নিশান

Link copied!