রংপুর : রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী, বিশিষ্ট শিল্পপতি ফকিরজ্জামান জাহাঙ্গীর বলেছেন, জনগণের ভোটে এবং আল্লাহর রহমতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারলে তিনি এলাকার দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করবেন। বেকারত্ব নিরসন, মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন এবং পরিকল্পিত অবকাঠামোগত উন্নয়নই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য। সম্প্রতি মিঠাপুকুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নির্বাচনী গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, “মিঠাপুকুর রংপুর জেলার অন্যতম বৃহৎ উপজেলা হলেও দুঃখজনকভাবে এখানে এখনো কোনো পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পৌরসভা না থাকায় এখানকার মানুষ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমি নির্বাচিত হলে দ্রুত মিঠাপুকুর পৌরসভা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ সব পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবো।”
ফকিরজ্জামান জাহাঙ্গীর বলেন, মিঠাপুকুর এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে এসব সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে এখানকার যুব সমাজ বেকারত্বের কারণে হতাশ হয়ে পড়ছে এবং অনেকেই মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধিতে জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি।
তিনি আরও বলেন, “যুব সমাজকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করতে কারিগরি শিক্ষার প্রসার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপন এবং উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। শিল্পপতি হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে চাই।”
মাদক নির্মূল প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির এই প্রার্থী বলেন, “মাদক সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে শেষ করে দেয়। আমি নির্বাচিত হলে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবো। মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা জানান।
ফকিরজ্জামান জাহাঙ্গীর বলেন, রংপুর-৫ আসনের সঙ্গে জাতীয় পার্টির একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এই আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর সময়ে এই এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে মহাজোট রাজনীতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে এই আসনটি জাতীয় পার্টির হাতছাড়া হয়ে যায়।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “এবার জনগণ পরিবর্তন চায়। জাতীয় পার্টির উন্নয়নমুখী রাজনীতি এবং অতীতের সাফল্য বিবেচনা করে মানুষ আবারও আমাদের দিকে ফিরে তাকাচ্ছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এই আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে ফিরে আসবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”
এদিকে গণসংযোগকালে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা দলীয় পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত যোগ্যতা, সততা ও এলাকার উন্নয়ন সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। অনেক ভোটারই বলেছেন, যিনি এলাকার উন্নয়ন, শান্তি-শৃঙ্খলা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারবেন, তাকেই তারা ভোট দেবেন।
একজন ভোটার বলেন, “আমরা দল নয়, ব্যক্তি দেখে ভোট দেবো। যে আমাদের এলাকার উন্নয়ন করবে, মানুষের পাশে থাকবে, তাকেই ভোট দেবো।”
জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও ফকিরজ্জামান জাহাঙ্গীরের প্রার্থিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, একজন শিল্পপতি হিসেবে তিনি এলাকার মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম। অতীতেও তিনি বিভিন্নভাবে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের আশা, ফকিরজ্জামান জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে রংপুর-৫ আসন আবারও জাতীয় পার্টির দখলে ফিরে আসবে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা আরও বলেন, “সুষ্ঠু ও নেট ক্লিন ভোট হলে এবং জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে এই আসনে জাতীয় পার্টির বিজয় নিশ্চিত হবে। হারানো আসন এবার ফকিরজ্জামান জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বেই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।”

আপনার মতামত লিখুন :